শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

১৫৮

ক্রিকেটের ইতিহাসে সাতটি মজার ঘটনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৮  

 ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৪ দশকের অধিক সময় ধরে। আতুরঘর ইংল্যান্ড থেকে ক্রিকেট আজ সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট আজ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই খেলা হয়। ফুটবলের পর ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ সময়ের এই পথচলার মাঝে ক্রিকেটের ইতিহাসে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য রেকর্ডের। জন্ম নিয়েছে অপ্রত্যাশিত অনেক ঘটনার, সেই সাথে মজার কাহিনীরও। এমন সাতটি কাহিনী থাকছে এবারের আয়োজনেঃ

১। এ্যালুমিনিয়ামের ব্যাটঃ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানেই আগুনে লড়াই। মাঠের লড়াই দিন শেষে রূপ নেয় সম্মানে। কেউ কাউকে এক বিন্দু ছাড় দিতে যেখানে নারাজ, সেখানে কাঠের ব্যাটের বদলে এ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ডেনিস লিলি! টেস্টের প্রথম দিনে লিলি কাঠের ব্যাট নিয়েই নেমেছিলেন। দ্বিতীয় দিনে নামেন এ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট নিয়ে। শুরুতে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ব্যাট করেন লিলি। বিপত্তি শুরু হয় ইয়ান বোথামের চতুর্থ বলে। লিলির স্ট্রেইট ড্রাইভ করা বলে তিন রান যোগ হয় অস্ট্রেলিয়ার খাতায়। ছোট্ট ড্রাইভে বলের এতো জোর গতি দেখে সন্দেহ জাগে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেয়ারলির। কৌতুহল থেকে বল পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, লিলির ড্রাইভের পর নরম বলটি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে আম্পায়ার ম্যাক্স ও’কনেল ও ডন উইসার সাহায্য নিয়ে জানতে পারেন ব্যাটটি আসলে এ্যালুমিনিয়ামের। আম্পায়ারদ্বয়ের নির্দেশে লিলিকে এ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট ব্যবহারে বিরত রাখেন ব্রেয়ারলি। সবচেয়ে মজার কাহিনী হলো, এই ম্যাচের ১২ দিন আগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই ধরনের ব্যাট নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিলি। আম্পায়ারদের চোখ এড়িয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা এই পেসার।

 

২। বদলি হিসেবে শিশুঃ এক খেলোয়াড়ের বদলে আরেক খেলোয়াড় ক্রিকেট মাঠের নিয়মিত ঘটনা। তবে খেলোয়াড় ব্যতীত অন্য কেউ মাঠে নামলে সেটা আশ্চর্যজনক বৈ কি! হ্যাঁ, এমনই ঘটনার জন্ম নিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া একাদশ-অল স্টার একাদশের ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়া সে সময়ের খেলোয়াড় আর অবসরে যাওয়াদের নিয়ে আয়োজিত একটি ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নিজের বদলি হিসেবে মাঠের দুই বাচ্চাকে দিয়ে ফিল্ডিং করিয়েছিলেন এন্ড্রু সিমন্ডস।

৩। মৌমাছি ঢুকে পড়াঃ মৌমাছির মধু মিষ্টি; হুল নিশ্চয়ই নয়! মৌমাছিকে এড়িয়ে চলা-ই বাঞ্ছনীয় মনে করেন সকলে। হুল থেকে বাঁচার জন্য নীরব আত্মসমর্পণ ছাড়া মাঝে মাঝে কিছুই করার থাকেনা। ক্রিকেট মাঠের বাঘা বাঘা সব ক্রিকেটারদের আত্মসমর্পণ দেখেছে দর্শকরা।
এই যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলংকার মধ্যকার একদিনের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে শুয়ে পড়েছিলেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। বাদ যাননি আম্পায়ারও ! মৌমাছির হুল ফোটানো থেকে বাঁচতে মাঠে শুয়ে পড়েছিলেন আম্পায়ার।

৪। পাখির মৃত্যুঃ ফিল্ডিং করতে গিয়ে পাখি মেরে ফেলেছিলেন জ্যাক রুডলফ। ইয়র্কশায়ার-ল্যাংকশায়ারের মাঝে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার।
বাউন্ডারি লাইন থেকে বল কুড়িয়ে বল ছুড়েছিলেন ইয়র্কশায়ার ফিল্ডার। ঠিক অই সময়ে তীব্র গতিতে ছোড়া বলের সামনে উড়ে আসে একটি কবুতর। বল লাগে সরাসরি কবুতরের শরীরে। পরক্ষণেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কবুতরটি। নিজেকে সামলে অভাগা কবুতরটিকে নিজেই বাউন্ডারি লাইনের বাইরে রেখে আসেন জ্যাক রুডলফ!

৫। স্ট্যাম্পে বল লেগেও নট আউটঃ সজোরে স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছে বল। আধুনিক স্ট্যাম্প ও বেলের বাতিও জ্বলে উঠেছে। তারপরও হতাশ বোলার! কারণ? কারণ, ব্যাটসম্যান নট আউট! আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্যাম্প থেকে বেল না পড়লে আউট নয়।
এমন ঘটনাও অনেকবার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশকে এমন মধুর দৃশ্যের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডর মধ্যকার একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্রিস ট্রিমলেটের জোড়া আঘাতের পর প্রায় ধরাশায়ী হয়েছিলেন আশরাফুল। অন এ হ্যাট ট্রিক বলে ট্রিমলেটের করা বল স্ট্যাম্পের উপরের অংশে লাগে বটে, কিন্তু স্ট্যাম্পের বেল অক্ষত অবস্থাতেই থেকে যায়। ফলে আউটের হাত থেকে বেঁচে যান আশরাফুল!

৬। দর্শক নিয়ে ব্যায়ামঃ খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যায়াম করা নৈমত্তিক ব্যাপার। শরীরকে নমনীয় করতে বিভিন্ন কায়দায় কসরত করতে দেখা যায় ক্রিকেটারদেরও। তা বলে দর্শক নিয়ে ব্যায়াম! দর্শকদের নিয়ে এমন হাস্যরসের মুহুর্ত এনে দিয়েছিলেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার রুনি ইরানি। ২০০২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শত শত দর্শক নিয়ে শরীর চর্চার ভঙ্গিতে মজায় মেতেছিলেন ইরানি। পেছনে থাকা দর্শক তো বটেই, মাঠের খেলোয়াড়দের হাসির খোরাক যুগিয়েছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার।

৭। শেষের আগে শেষঃ নিরাপত্তা প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝে মাঝে দর্শক কিংবা ভক্তরা মাঠে ঢুকে পড়েন। কিন্তু গ্যালারীর প্রায় সব দর্শক মাঠের ঢুকে পড়া বিরলই বটে। খেলা শেষ হবার আগে গ্যালারীর অসংখ্য দর্শক ঢুকে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে।
ক্যারিবিয়ান দ্বীপে ৭ উইকেটে ১৭০ রান নিয়ে ব্যাট করছিলো অস্ট্রেলিয়া। টার্গেট ১৭৪। হাতে আছে মাত্র ১ বল। জিততে হলে শেষ বলে দরকার ৫ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেজ আক্রমণের জবাবে সজোরে ব্যাট চালিয়েছেন স্টিভ ওয়াহ, বল বাউন্ডারি ছুঁই ছুঁই; সিঙ্গেল নেয়ার জন্য দৌড়ালেন ওয়াহ। এরমধ্যে একটি সিঙ্গেল রানও নিতে পারলেন না ওয়াহ! নিবে কি করে; খেলা শেষ হবার পূর্বেই মাঠে দর্শকে ‘সয়লাব’! কোন রান যোগ না করেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস!

রাজবাড়ী প্রতিদিন
রাজবাড়ী প্রতিদিন