রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

৮৮

ছিয়ানব্বইর শ্রীলংকা হবার হাতছানি বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২ জুন ২০১৯  

সামনে অর্জুনা রানাতুঙ্গা, মারভান আতাপাত্তু, অরবন্দি ডি সলিভা, সনাৎ জয়সুরয়িা, চামিন্দা ভাস, মুরালিধরন, রাসেল আর্নল্ড, উপুল চন্দনা! এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটারে  ঠাসা ছিল শ্রীলংকার ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ দল। সেই দলের মূল শক্তি ছিল একসঙ্গে র্দীঘদিন ধরে খেলে যাওয়া সেসময় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মত সবাইকে তাক লাগিয়ে বিশ্বকাপের মুকুট জিতেছিল শ্রীলংকা। এবার যেন বাংলাদেশের সামনে সেই শ্রীলংকা হওয়ারই সুযোগ। 

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হওয়া ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে যেন বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। এখনো স্মৃিততে ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে ইংল্যান্ডের মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা। মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল যেন সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রতিরোধ্য এক দল। দীর্ঘদিন ধরে এই  খেলোয়াড়রা একসঙ্গে খেলে যাচ্ছেন। তাই দলের খুঁটিনাটি এবং বিপক্ষ দলের নানা দুর্বলতার খবরও তাদের জানা। কিন্তু এমন আশার ফুল ফোঁটাতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে তাদের।

আগের টুর্নামেন্টগুলোতে গ্রুপ ভিত্তিক হওয়ায় যেকোন একটি বা দুটি ম্যাচ জিতলেই পরবর্তী রাউন্ড অনেকটা নিশ্চিত, সেখানে এবার খেলতে হবে রাউন্ড রবিন লিগ। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রত্যকে দলের বিপক্ষেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে ৯টি ম্যাচের ভেতরে কমপক্ষে ৫টি ম্যাচে জয় ছাড়া কোনভাবেই সেমিফাইনালে পৌঁছানো সম্ভব হবে না টাইগারদের জন্য। আর এই অসম্ভব কাজটি করার মত যথেষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে বাংলাদেশ দলে। 

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়দের ভেতর কেবল মাশরাফিরই দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার পর এখনো খেলে যাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তামিম, সাকিব এবং মুশফিক। আরো রয়েছেন বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মত দেশের মাটিতে দারুণ খেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে ভালো করাটা অনেকাংশেই নির্ভর করছে তরুণ ক্রিকেটারদের উপর। 

২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের কথাই ধরা যাক। যেখানে অভিজ্ঞরা রান করতে ব্যর্থ সেই ম্যাচে লিটন দাস খেলেছিলেন ১২১ রানের কালজয়ী এক ইনিংস। যদিও বাংলাদেশ সেই ম্যাচে জিতেনি কিন্তু তার মত জাতীয় দলে যারা নতুন কিংবা কয়েক বছর ধরে খেলে যাচ্ছেন এমন ক্রিকেটারদের জন্য একটি বার্তাও বটে।

মিরাজ, মোস্তাফিজ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, রুবেল হোসেন যদি নিজেদের দিনে জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবের জন্য কাজটা আরো সহজ হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হতে পারে সঠিক দল নির্বাচন এবং ইংল্যান্ডের আবহাওয়া। বিপক্ষ দল সম্পর্কে ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্যতীত মাঠে নামলেই বিপদে পড়তে হতে পারে মাশরাফির দলকে। 

অতীতে সূক্ষ এমন ভুলের জন্য অনেক ম্যাচ হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। খেলোয়াড়দের শট নির্বাচনেও অনেক বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে কোন বলে কী রকম শট খেলা উচিত সেটা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে তাদের। কেননা বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে ভুল করলে সেটা কাটিয়ে ওঠা একদমই সম্ভব না। তার উপর যেখানে বিশ্বের বর্তমান সময়ের বাঘা বাঘা খেলোয়াড়রা মুখিয়ে রয়েছে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে, সেখানে তো নিখুঁত হয়ে খেলাটাই বাংলাদেশের প্রথম কাজ। 

পঞ্চপাণ্ডবের হয়তো সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপেও হতে যাচ্ছে এটি। হয়তো আগামী বিশ্বকাপে এদের থেকে দুই তিনজন খেললেও পাঁচজনকে একসঙ্গে এই বিশ্বকাপেই শেষবারের মত পাচ্ছি আমরা। সেজন্য উচিত, দলের জুিনয়র ক্রিকেটারদেরকেও এগিয়ে আসা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়া এই পঞ্চপাণ্ডবেরা যদি দেশকে বিশ্বকাপটা উপহার দিতে পারে, তাহলে সেটা হবে এই জাতীর জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারগুলোর একটি।

রাজবাড়ী প্রতিদিন
রাজবাড়ী প্রতিদিন