রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

২১২

মাশরাফির আওয়ামী লীগ বেছে নেওয়ার কারন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৮  

একাদশ জাতীয় সংসদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই গলির মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস আদালত, বন্ধুদের আড্ডা সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা তুঙ্গে। সবার ভাবনায় নির্বাচনে কে জয়ী হতে যাচ্ছেন? আগামী কয়েকদিনে দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে। ইতিমধ্যে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ নিবন্ধিত প্রায় সব রাজনৈতিক দল তাঁদের প্রার্থীদেরও মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নির্বাচনে আসার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুজব থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনে আলোচনায় চলে আসেন মাশরাফি। আওয়ামী লীগও ভুল করেনি। নড়াইল-২ আসনে এবারের নৌকার মাঝি মাশরাফি।

ক্রিকেট দিয়ে মাশরাফি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে উত্থান তাঁর নেতৃত্বগুণেই এসেছে অনেকটা। নেতৃত্বের জন্য একটা দৃঢ় মানসিকতার প্রয়োজন যার সবকিছুতেই পরিপূর্ণ মাশরাফি গোটা বাংলাদেশের মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ছিলেন এতদিন। কিন্ত রাজনীতিতে আসার খবরে মাশরাফির ভক্তকুল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেখানেও গিয়ে যে ভক্তকুল তাঁকে কিছুদিন আগেও দেবতা জ্ঞান করত তারাই আজকে তাঁকে গালমন্দ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, মাশরাফিকে কেন রাজনীতিতে আসতে হবে? আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে হবে? মাশরাফি কেন পাকিস্তানের ইমরান খানের মত নতুন দল গঠন করে নির্বাচনে এলেন না? ইত্যাদি আরও নানা বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা।

মাশরাফি কোনো ফুর্তিবাজ ক্রিকেটার নন। ইমরান খানের মত নারী কেলেঙ্কারিও নেই মাশরাফিকে ঘিরে। তিনি কেন ইমরান খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাকিস্তানের পথে হাঁটতে যাবেন?

অনেকেই বলতে পারেন মাশরাফি কেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গণফোরামের হয়ে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আওয়ামী লিগের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন? 

কারণটা খুবই স্পষ্ট। মাশরাফি বারবার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তার মনে গভীর সম্মান রয়েছে।  বাংলাদেশের আর কোন দল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি এতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই দেশের প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হয়েছে। বিএনপি যেখানে যুদ্ধাপরাধী অপরাধে দুষ্ট জামাতকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিল।   

নির্বাচন হবে নৌকা বনাম ধানের শীষের মধ্যে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির মধ্যে। সেই আওয়ামী লীগেরই নড়াইল-২ আসনের নৌকার মাঝি হয়েছেন মাশরাফি। নির্বাচনে মহাজোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে। বিষয়টা একটু স্পষ্ট করে বললে, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ কোনটা নির্বাচনী জোট আর কোনটা আদর্শিক জোট তার মধ্যে পার্থক্য বুঝে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট হলো নির্বাচনী জোট যেখানে আওয়ামী লীগ ও জাপা ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই দল দুই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বামদল গুলোর আদর্শিক জোট তাই তাদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মুখে স্বীকার না করলেও বিএনপি, জামাত এবং গণফোরামের জোট হলো আদর্শিক জোট। আদর্শিক জোট না হলে কেনই বা তাঁরা একই প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? উল্লেখ্য, বিএনপি কখনো স্বীকার করেনি জামাতের সঙ্গে তাঁদের কিসের জোট।

দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এবারের নির্বাচনে দলগত ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা জামাত। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সুযোগ ছিল নিজেদের প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে নির্বাচন করার। কিন্তু তাঁরা নিজেদের প্রতীক বাদ দিয়ে ধানের শীষেই নির্বাচন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগ দিয়ে পিতার হত্যাকারীদের তালিকায় যাদের নাম জড়িত তাঁদেরই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদও নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করছেন।

মাশরাফি বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তার মনে গভীর সম্মান রয়েছে। বাংলাদেশের আর কোন দল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি এতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ? সবাই তো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি জামাতের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

মাশরাফি একবার বলেছিলেন, ‘আমরা বিনোদন দেই। আমরা বীর নই। বীর হলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। আমরা জাতির জন্য কিছুই উৎসর্গ করিনি। মুক্তিযোদ্ধারা করেছিলো। আমাকে ভুল বুঝবেন না, ক্রিকেট সবকিছু নয়। আমরা যেটা করি তা হলো আনন্দ বয়ে আনার চেষ্টা করি।‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য এর চেয়ে বেশি কাজ করেছেন?

মাশরাফির রাজনীতিতে যোগদান রাজনীতিকেই সমৃদ্ধ করবে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে মাশরাফি কাজ করবেন। বিএনপির মতো একটি সর্বহারা দল, বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো জঙ্গি এবং মানুষ পোড়ানোর যে একটা জোট, সে জোটে যোগ দেননি মাশরাফি। সর্বোপরি ঐক্যফ্রন্টের ন্যায় বিএনপির সঙ্গে ফুলসজ্জা করে, জামাতের সাথে পরকীয়া প্রেম করছেন না মাশরাফি।

রাজবাড়ী প্রতিদিন
রাজবাড়ী প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর