শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

১৪৩

যে রোগের কারনে কাপড় পড়তে ভয়!

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯  


ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা অনেক ধরনের ফোবিয়া সম্পর্কেই হয়তো অবগত। যেমন: মাকড়শাকে অনেকেই বিশেষ করে মেয়েরা বেশ ভয় পান, আজ আমরা অনেকেই জানি এ মাকড়সাভীতির অপর নাম অ্যারাকনোফোবিয়া! ঠিক তেমনি সাপের ভেতর অন্য নাম ওফিডিওফোবিয়া, অনেকে ভীড়ের মধ্যে অনিরাপদ অনুভব করেন, তাদের ভীতিকে বলা হয় আগোরাফোবিয়া। এ রকমই একটি ফোবিয়ার নাম হচ্ছে ভেস্টিফোবিয়া।

এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষ জামা-কাপড় পড়তে আতঙ্ক বোধ করেন। বিভিন্ন ধরনের স্থান ও পারি-পার্শ্বিকতার জন্য একজন মানুষের মধ্যে এই ফোবিয়া জেগে উঠতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। যেমন: নির্দিষ্ট কাপড়ের প্রতি এলার্জি অথবা কাপড়-চোপড় নিয়ে পূর্বে কনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইত্যাদি।

ভেস্টিফোবিয়ার কারণসমূহ:

কাপড়-চোপড়কে কেন্দ্র করে কারো যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি শেষমেশ ভেস্টিফোবিয়ায় রূপ নিতে পারে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক অথবা অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে এই ফোবিয়া গড়ে উঠতে দেখা যায়। বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, মিলিটারি বুট কিংবা অন্য কোনো ইউনিফর্ম পড়া অবস্থায় কোনো সৈনিক যদি কোনো বাজে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যান তবে সেখান থেকেই তার মধ্যে ভেস্টিফোবিয়ার সূচনা হতে পারে।

অনেক মানুষ রয়েছেন যারা এমন সংস্কৃতি ও পরিবেশ পরিস্থিতিতে বেড়ে ওঠেন যেখানে পোশাক নিয়ে কড়া বিধি-নিষেধ রয়েছে, অনুমোদিত পোশাক পরেই সেসব জায়গায় দিনযাপন করতে হয়। এটিও হতে পারে ভেস্টিফোবিয়ার পেছনে একটি কারণ। আবার কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আঁটো-সাঁটো জামা কাপড় ক্লস্ট্রোফোবিয়ার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে ভেস্টিফোবিয়ায় রূপ নিতে পারে।


 
কিছু কিছু মানুষ দাবি করেন ভেস্টিফোবিয়া ব্যাপারটি বংশগত, যার মানে বাবা বা মায়ের কাপড় চোপড়ের প্রতি আতঙ্ক থাকলে তা তাদের উত্তরাধিকারেও সংক্রমিত হতে পারে। যদিও এই যুক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ তেমন একটা নেই এবং ধারণা করা হয় উত্তরাধিকারের মধ্যে এটি জিনগতভাবে ছড়ায় না বরং বাবা-মায়ের পোশাকের প্রতি আতঙ্ক দেখে বাচ্চা বড় হতে হতে নিজের মধ্যে এ স্বভাবটি নিয়ে নেয়!

ভেস্টিফোবিয়ার লক্ষণ সমূহ:

অন্যান্য ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মতো এই ফোবিয়াতেও রোগীর মধ্যে ভীষণ রকম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা কাজ করে। ফোবিয়াটি কার মধ্যে কতটা গুরুতর তার ওপর নির্ভর করে এর লক্ষণ কতটা ভয়াবহ হবে। ‌ তবে সাধারণত এই ফোবিয়া শুরু হলে মানুষটি কাঁপতে থাকেন, মনে হতে পারে তিনি আটকা পড়ে গেছেন অথবা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে, মাথা ঝিমঝিম করতে পারে , বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। এলার্জি এবং অন্যান্য আতঙ্কজনিত সমস্যার মতো ভিন্ন ভিন্ন মানুষ এ রোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ করতে পারেন।

পরিপ্রেক্ষিতের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। যেমন একদিন দেখা গেল ভেস্টিফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষটি খুব ঘামাচ্ছেন আবার অন্য দিন দেখা গেল তিনি খুব কাঁপছেন, এমনভাবেই এক একদিন এক একরকম এর লক্ষণ নিয়ে হাজির হতে পারে এ ফোবিয়া।

ভেস্টিফোবিয়ার প্রতিকার:

বিভিন্ন ফোবিয়া আক্রান্তদের জন্য হিপনোথেরাপি নামের একটি থেরাপি সাধারণ চিকিৎসা হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। ভেস্টিফোবিয়ায় আক্রান্তদের জন্যও এটি কার্যকর একটি থেরাপি হিসেবে কাজ করে। যে কেউই বুঝতে পারেন, পোশাকের প্রতি আতঙ্ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে। হিপনোথেরাপি একজন মানুষের অবচেতন মনকে এ আতঙ্ক থেকে দূরে রাখতে পারে এবং ভেস্টিফোবিয়া অনেকটাই কমিয়ে আনতে সহযোগিতা করে।

ডাক্তাররা প্রায়ই ভেস্টিফোবিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে থাকেন। প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করলেও অনেক ওষুধে বেশ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়, একটা সময় গিয়ে ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে । তাই এ ফোবিয়ায় আক্রান্তদের জন্য থেরাপি নেওয়াটাই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে কয়েক মাস সময় লাগলেও তা ওষুধ পত্র দ্বারা ক্ষণস্থায়ী আতঙ্ক মুক্তির চেয়ে বেশী দীর্ঘস্থায়ী হয়।

রাজবাড়ী প্রতিদিন
রাজবাড়ী প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর