রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

৯৩

হেমন্তের শেষ বিকেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

 

হেমন্তের শেষ সপ্তাহ চলছে এখানে। বেশ কদিন ঠান্ডায় কাবু হওয়ার পর একদিন ছিল ঝলমলে রোদ্দুর। সেদিন হুট করে মনে হলো আজ ঘুরতে যাওয়ার দরকার। এরপর তাড়াহুড়ো করে আমার কাছাকাছি বাঙালি বন্ধুদের জানানো হলো, আমরা যাচ্ছি কেউ গেলে এক ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে বের হতে হবে।

কীভাবে কীভাবে তিনটা পরিবারের সবাই সময়মতো তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম টার্নার ফল, ওকলাহোমা সিটির উদ্দেশে।

শীতকাল সামনে, তাই মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই বিরানভূমি। গাছেরা সব পাতাশূন্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুই ঘণ্টা পরে যখন টার্নার ফলে পৌঁছালাম চারদিকে তখন শুধু হেমন্তের বাতাস। ঝিরিঝিরি করে পানি পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। পরিষ্কার হালকা সবুজাভ বর্ণের পানির ধারা ধরে এগিয়ে গেলাম ঝরনাধারার উদ্দেশে।

টার্নার ফলে লেখিকাসেই কবে, থমাস টার্নার নামে একজন স্কটিশ ইমিগ্রান্ট ১৮৭৮ সালে এই ঝরনাধারাটি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে একে টার্নার ফল নামে ডাকা হয়। মূলত এরপর থেকেই বিনোদনের স্থান হিসেবে এটা ব্যবহৃত হচ্ছে আজ প্রায় দেড় শ বছর ধরে।

আরবাকল মাউন্টেনের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সুন্দর ছিমছাম ঝরনাধারাটি। বৃহত্তর টেক্সাস, ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্য থেকে অনেক টুরিস্ট আসেন ৭৭ ফিট উঁচু এই ঝরনাধারা দেখতে।

পাথুরে পাহাড়, নুড়ি বিছানো চলতি পথ ধরে একটু এগিয়ে দেখতে পাই প্রাকৃতিক সুইমিং পুল যার সৃষ্টি হয়েছে ঝরনার পানি থেকে। ঝরনার পাশ দিয়ে হেঁটে ওপরে উঠলে বেশ বড়সড় একটা গুহা। অনেককেই দেখলাম রাতে থাকার জন্য তাঁবু টানিয়ে নিচ্ছেন। ইন্ডিয়ান কিছু পরিবার দেখলাম প্রচুর খাবারের আয়োজন করছেন। সেটা দেখে কেমন যেন আমার দেশের শীতকালীন বনভোজনের কথা মনে পড়ে গেল।

এই সময় এক কাপ চা খুব তীব্রভাবে মিস করছি। এবার হুট করে চলে আসায় সবটা ভালো করে গুছিয়ে আসা হয়নি।

টার্নার ফলে পরিবারের সবার সঙ্গে লেখিকাবিকেলবেলায়, সূর্য তখন পাহাড়ের ওপরে রং ছড়িয়ে বসে আছে। হু হু করে বাড়ছে বাতাস। শীত আসছে জানান দিচ্ছে আমাদের।

একটা সময় পরে ঘোরাঘুরি আর সবার গল্পও বুঝি ফুরাল। বেশ কিছুটা সময় এক সঙ্গে কাটিয়ে নুড়ি বিছানো পথ ধরে এগিয়ে যাই সবাই। এবার তো ফিরে যেতে হবে। হেমন্তের শেষ বিকেল মিহি সোনা রোদ্দুরে মিশে যায়। শুকনো কাশের বনে মরীচিকা খেলে যায়।

পাহাড়ি পিচঢালা পথ দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে আমাদের ডালাসের উদ্দেশে। গাড়ির সিডি প্লেয়ারে বেজে ওঠে জীবনানন্দ দাশের কবিতা—

‘তুমি তো জানো না কিছু, না জানিলে...
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে।
যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে।’

রাজবাড়ী প্রতিদিন
রাজবাড়ী প্রতিদিন